Articles

Mahdi, Dajjal and Eassa(AS)

Deen, Sharia'h and Fiqh

Issues of which breaks the Iman

Dominance and Lordship

Justice and Governance

The boundary of sustaining the Relationship

Tagoot

Marriage and Divorce

Life of the Prophet (SAW)

Life of Khulafa Rashideen (RA)

The Ten Glad Tiding to Jannah

Democracy, Monarchy and Khilafah

Respecting wifes and slaves of Prophet(SAW)

 

যেভাবে বদলে গেলেন জহুরা খাতুন


জহুরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। দুই গ্রাম পরে তার কলেজ। জহুরা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। বাড়ি থেকে কিছুটা পায়ে হেটে তারপর টেম্পুতে করে কলেজে যেতে হয় তাকে। কলেজে তার কয়েকজন বান্ধুবী আছে। বান্ধুবীদের মধ্যে টিনা, মিনা, সুজানা, প্রেয়সী, সুলতানা একটু বেশী ঘনিষ্ঠ। তারা সবাই দেখতে মোটামুটি সুন্দর। তবে জহুরা ও সুজানা একটু বেশী সুন্দরী।

জহুরা ও তার সব বান্ধুবীই আধুনিক। খোলামেলা চলাটাই তাদের পছন্দ। যদিও এ জন্য প্রতিদিনই কলেজে কিছু না কিছু খরাপ মন্তব্য শুনতে হয়। যা শুনতে শুনতে এখন অভ্যস্থ হয়ে গেছে।

আজকে ১৪ই ফেব্রুয়ারী। কলেজে আসার পথে সুজানাকে প্রেম নিবেদন করেছে স্থানীয় এক ছেলে। সুজানা অত্যান্ত নাজেহাল অবস্থায় খবরটা জহুরাকে বলল। জহুরা বলল ভয় নেই, সরকার মেয়েদের অধিকার নিয়ে বড়ই তৎপর। মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য অনেক কঠিন কঠিন আইন প্রনয়ন করেছে --।

তার কথা শেষ না হতেই সুজানা রেগে গেল। সে বলতে শুরু করল, জহুরা তুই কি ভুলে গেছিস? কয়েক মাস আগে আমাদের কলেজের এক ছাত্রীকে এক বখাটে প্রেম নিবেদন করেছিল। মেয়েটি সাড়া না দেওয়ায় গত মাসে তাকে এসিড নিক্ষেপ করেছে বখাটেরা।  এখন সে মুত্যুর দ্বার প্রান্তে।

গত বছর আমাদের কলেজের লেকচারার হাছিনা আপাকে নিয়ে তারই ছাত্ররা কিছু খারাপ মন্তব্য করেছিল। আপা প্রতিবাদ করে ছিলেন। ঐ বখাটে ছাত্ররা হাছিনা আপাকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করেছে। ঐ ধর্ষনের ভিডিও করেছে। আপা সেই অপমান সইতে না পেরে আত্নহত্যা করেছে। তাছাড়া প্রতিদিনের পত্রিকায় বা টেলিভিশনে দেখতে পাই ধর্ষন আর হত্যার খবর।

জহুরা শুন! তুই যে আইনের কথা বলছিস, সে আইন কি ঐ ছাত্রীকে এসিড থেকে নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? হাছিনা আপাকে আত্নহত্যা থেকে বাঁচাতে পেরেছে? সেই আইন কি প্রতিদিনের ধর্ষন আর হত্যা থেকে মা বোনদেরকে রক্ষা করতে পারছে?

সমাজের এই চিত্র আজ আমাকে জিম্মি করে রেখেছে। আমি তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ছেলেটি কিছু না কিছু করার জন্য ওৎ পেতে বসে থাকবে। আমাকে রক্ষা করার জন্য সরকারতো পুলিশ নিয়োগ দেয়নি। আর পুলিশতো এখন ধর্ষকের চেয়েও ভয়াবহ।

কথা গুলো সুজানা এমন ভাবে বলল যেন সে এখনি কেদেঁ ফেলবে। জহুরা জিজ্ঞেস করল তাহলে এখন কি করবি? সুজনার সাফ জবাব,  আর কি করব, কলেজে আসা বন্ধ করে দিব। এরপর থেকে সুজানা আর কলেজে আসে না।

কিছুদিন পর স্থানীয় এক নেতার ছেলে জহুরাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বলল কাল যেন ছেলেটি উত্তর পায়। জহুরা অবাক! এখন সে কি করবে--? পরদিন কলেজে যাওয়ার পথে জহুরা দেখল ছেলেটি পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ঝুরাকে দেখেই সে বলে উঠল কি হলো কিছু বললে না যে? জহুরা সাহসিকতার সহিত জবাব দিল প্রেম করতে পারব না। তবে আপনি রাজী হলে আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।

কথা শুনে ছেলেতো অবাক। সে বলল না, না, আমার পরিবারতো আমাকে এখন কোন মতেই বিয়ে দিবে না। কারন এখনো আমার বড় ভাই ও ছোট বোন বিয়ে করে নাই বরং এই কথা শুনলে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে। জহুরা বললঃ তাহলে দয়া করে আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না। এরপর জহুরা ভাবতে লাগল ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি থেকে কিভাবে বাচব?  ভাবতে ভাবতে একটা উপায়ও বের করল, কাল থেকে সে বোরকা পড়ে কলেজে আসবে।  তাহলে কোন ছেলে তার চেহারা দেখবেও না, প্রস্তাবও দিবে না।

জহুরা কথামত ভাবীর বোরকা পরে বাড়ি থেকে বের হল। কিছু দূর যেতেই কিছু মাদ্রাসার মেয়ে তাকে সালাম দিল। জহুরা এই প্রথম একসাথে এত সালাম পেল। টেম্পুতে উঠে আরো অবাক হলো জহুরা।  আজ বোরকা পরিহিত জহুরার পাশে কোন পুরুষই বসেনি। যদিও দুজন পুরুষ দাড়িয়ে ছিল। অথচ আগে আধুনিক পোশাক পরিহিতা জহুরার পাশে বসার জন্য ছেলেরা লাফালাফি করত। কারন মেয়েদের পাশে বসলেইতো অন্য রকম লাগে। আজ প্রথম জহুরা বখাটে ছেলেদের বাজে মন্তব্য ছাড়াই কলেজে এল।

বোরকা পরিহিতা জহুরাকে দেখে বান্ধুবীদের মাঝে রিতীমত হইচই পড়ে গেল। অনেকে অনেক ধরনের মন্তব্যও করল। দুপরের বিরতীর সময় জহুরা ক্যান্টিনের পাশে বসে আছে। প্রথম বর্ষের দুজন হিজাব পরিহিতা ছাত্রী কাছে এসে বলল আপা আসুন এক সাথে কিছু খাই। জহুরা জিজ্ঞেস করল, কলেজে এত মেয়ে থাকতে আমাকে ডাকলে কেন?  মেয়েরা বললঃ আপা আপনি ধার্মীক, আপনাকে খাওয়ালে অনেক ছাওয়াব হবে। কিভাবে বুঝলে আমি ধার্মীক? এই যে আপনি কলেজের মধ্যেও পর্দা করেন। কথা শুনে জহুরা থমকে গেল। মনে মনে বলল আমিতো ইসলামের কিছুই জানি না, বিপদে পড়ে বোরকা পরাতেই এত সম্মান।

জহুরার মনে কৌতূহল সৃষ্টি হল। ইসলাম সম্বন্ধে জানার জন্য সে খুব আগ্রহী হয়ে উঠল। পরের দিন আলেম পড়ুয়া পাশের বাড়ির এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে বলল, বলতো আমি ইসলামকে কিভাবে জানব? ছাত্রীটি বলল আপা আপনি কুরআন পড়েন, কোথায়ও না বুঝলে আমাকে জানাবেন। আমি যতটুকু জানি আপনাকে বলব, কোন বিষয়ে আমিও যদি না বুঝি আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে আপনাকে জানাশ। আর হা আপনি রাসূলের জীবনী গ্রন্থ “আর রাহেকুল মাখতুম” বইটি পড়ুন।
এরপর থেকে বদলে গেল জহুরার জীবন। জহুরা আর আগের জহুরা নেই, তার আচার আচরনে ও চাল চলনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন ছোট বড় সবাই জহুরাকে সম্মান করে।  

এরপর থেকে কলেজে না গিয়ে পাশের এলাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হল জহুরা। কিছুদিন পর এক দ্বীনদার পরিবার থেকে জহুরার জন্য বিয়ের প্রস্তাব এল। সেখানে তার বিয়েও হল।

বাসর রাতেই ঘটল এক অবাক কান্ড। স্বামী তাকে স্পর্শ করার আগেই তার হাতে কাবিনের (মোহরানা) পুরো টাকা দিয়ে দিল। জহুরা মনে মনে বলল আমার বংশের মধ্যে মনে হয় আমিই প্রথম মেয়ে, যে কাবিনের পুরো টাকা বাসর রাতেই পেল। অথচ বতর্মান সমাজের ছেলেরা কাবিন দেওয়া তো দূরের কথা বরং উল্টো যৌতুকের জন্য নির্যাতন করছে।

আজ আমি জহুরা খাতুন উপলব্দি করতে পেরেছি যে কঠিন আইন নয়, ইসলামের শিক্ষা এবং এর বাস্তবায়নই দিতে পারে একটি শান্তিপূর্ন পরিবার, সমাজ ও দেশ।

তাই আসুন ইসলামকে জানি, কুরআন সুন্নাহর আনুগত্যের মাধ্যমে প্রকৃত মুসলিম হবার চেষ্টা করি।  হে আল্লাহ! আমাদেরকে তওফিক দান করুন। আমীন।।

ফেইজ বুক থেকে সংগ্রহীত