Articles

Mahdi, Dajjal and Eassa(AS)

Deen, Sharia'h and Fiqh

Issues of which breaks the Iman

Dominance and Lordship

Justice and Governance

The boundary of sustaining the Relationship

Tagoot

Marriage and Divorce

Life of the Prophet (SAW)

Life of Khulafa Rashideen (RA)

The Ten Glad Tiding to Jannah

Democracy, Monarchy and Khilafah

Respecting wifes and slaves of Prophet(SAW)

 

হিন্দু ছেলের ইসলামে আসার গল্প: দেখছি আমার মা আগুনে জ্বলছে, সত্যই কি এটি বিধাতার হুকুম?

Description: story-of-coming-to-islam-my-mothers-funeral-1382956747-flickr-2561072289-original-524x330
আমি যখন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করি তখন পৃথিবীর নানা দেশের ছাত্রদের সাথে পরিচয় ও সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়। তন্মধ্যে একটি ছাত্রের ঘটনা আমার হৃদয়ে গভীর ভাবে দাগ কেটেছে। সে একজন নও মুসলিম। নাম তার আব্দুর রহমান। পূর্বে নামছিল নারায়ন। তার বাসস্থান উত্তর প্রদেশ, ইন্ডিয়া। সে ঠাকুর বংশের ছেলে। কীভাবে ও কি কারণে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে তা জানতে চাওয়ায় সে বলল:
আমার গ্রামে একটি প্রাইমারি স্কুল ছিল। সেখানেই আমি লেখাপড়া করতাম। একই গ্রামের আব্দুল্লাহ্ নামে আমার এক বন্ধু ছিল। আমি ও আব্দুল্লাহ একসাথে একই ক্লাসে লেখাপড়া করতাম। আব্দুল্লাহ একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের ছেলে। আমাদের বন্ধুত্ব ছিল গভীর। আমি তার বাড়িতে যেতাম। সেও আমার বাড়িতে আসতো। সুখে দুঃখে আমরা একে অন্যের খোঁজ খবর নিতাম। ক্লাস রুমে একই সাথে বসতাম। এমনিভাবে আমাদের দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। আমরা তখন ৭ম শ্রেণীতে, একদিন তার মা হঠাৎ মারা গেলেন। আমি তাকে সান্তনা দেয়ার জন্য তার বাড়িতে গেলাম। তার মা পর্দা মেনে চলতেন। জীবদ্দশায় তার বাড়িতে কতবার গিয়েছি কিন্তু একটি বারও তিনি আমার নজরে পড়েননি। যদিও আমি ছোট ছিলাম। মৃত্যুর পর  মনে মনে ভেবে ছিলাম এবার একনজর তাকে দেখব।


কিন্তু তাকে কাফন পড়িয়ে মুর্দার খাটে করে পর্দার ব্যবস্থা করে কয়েক জনের কাঁধে করে এমন ভাবে বাড়ি থেকে বের করল। অন্য কারো অনুমান করা সম্ভব নয় যে আব্দুল্লাহর মা কত বড় ছিলেন? কত লম্বা ছিলেন?  মোটা ছিলেন, না পাতলা ?
সবাই তাঁকে নিয়ে দোয়া পড়তে পড়তে কবরস্থানের দিকে যাচ্ছে। আমিও তাদের সাথে রওয়ানা হলাম। আমার মনে ইচ্ছা ছিল যে, কবরে নামানোর সময় একটু দেখব। কিন্তু সে আশা আর পূরণ হলো না। কারণ তার মাকে কবরের নামানোর পূর্বেই কবরের চতুর পার্শ্বে পর্দা দিয়ে ঘিরে তার পর তাকে সসম্মানে নামানোর ব্যবস্থা করল। ভাবলাম এটা হয়তো তাদের ধর্মের বিধান।
যাক পরিশেষে বন্ধুকে কিছু সান্তনা দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসলাম। আল্লাহর কি ইচ্ছা কয়েকদিন পর আমার মাও ইহজগৎ পরিত্যাগ করলেন। আমার মুসলিম বন্ধুটিও এমন দুঃখের দিনে পাশে এসে আমাকে সান্তনা দিতে ত্রুটি করেনি। আমার মা ও উচ্চ পরিবারের মহিলা ছিলেন বিধায় তিনি তার জীবদ্দশায় সাধারণ মানুষের চোখে দেখা দিতেন না।


হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী মাকে শ্মশানে নিয়ে চিতায় পুড়াতে হবে। তাই বাড়ি থেকে বের করা হলো। আমার মার উপরে এমন এটি পাতলা কাপড় ছিল যে, ভিতর থেকে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখা যাচ্ছিল। আমার বন্ধু আমার পাশে ছিল তাই কিছুটা সংকোচ বোধ করছিলাম। তার পর আমার আম্মাকে নিয়ে যাওয়া হলো শ্মশানে, রাখা হলো চিতায়। আগুন দেয়ার সাথে সাথে তার উপরের পাতলা আবরণটি পুড়ে গেল। আমার মা এখন উলঙ্গ অবস্থায় আগুনে জ্বলছে। লজ্জায় আমার মাথানত হয়ে আসছে। আমার বন্ধুর দিকে তাকাতে পারছি না। কিন্তু উপায় নেই, এতো আমাদের ধর্মের বিধান।
আগুন যখন ভালভাবে ধরেছে তখন দেখি আমার মা কখনো বাঁকা, কখনো সোজা, আবার কখনো দাঁড়াতে চাচ্ছে। আসপাশে অনেক লোক, কারো হতে লাঠি ও বল্লম। তারা মাকে আঘাত করে আগুনে পুড়তে বাধ্য করছে। কি করুন দৃশ্য! এ দৃশ্য আমাকে যেন হতবাক ও অচেতন করে ফেলল।
তখন আমার চুখের সামনে ভেসে উঠল আব্দুল্লাহর মায়ের কাফন দাফনের দৃশ্য। কত সম্মান জনক ভাবে তাকে মাটি দেয়ার পর তার চির শান্তির জন্য সবাই দোয়া করে বিদায় নিল। তিনি যখন বেঁচে ছিলেন তখন ও তার সম্মানের কমতি ছিল না। মৃত্যুর পরও তাকে যথাযথ সম্মানে কবর দেয়া হলো। মনে হয় পরগজতেও তাঁর সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে।
কিছুক্ষণ পর আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমার মা তখনো আগুনে জ্বলছে। কত কষ্ট, কত যাতনা ও কত বেদনা আমি পেয়েছি যা বর্ণনার ভাষা নেই। আমার মা আমাকে অত্যন্ত স্নেহ ও আদর করতেন।
আমার মা অভিজাত পরিবারে সসম্মানে জীবন যাপন করেছিলেন। হিন্দু ধর্মের হলেও আমার মা সাধারণ মানুষের সাথে দেখা দিতেন না। বাড়ির বাহিরে যেতেন না। অন্যান্য মেয়েদের মত ঘোরাফেরা করতেন না। আস্তে আস্তে কথা বলতেন। শান্ত মেজাজের ছিলেন তিনি। ঝগড়া ফাসাদকে তিনি কখনো পছন্দ করতে না। এমন সুন্দর স্বভাবের মা ছিলেন আমার। সুখ ও শান্তিতে ইজ্জতসহ বসবাস করতেন তিনি, অথচ মৃত্যুর সাথে সাথে তাকে এমন করে বেইজ্জত করা হলো। জীবদ্দশায় তার চেহারা অপর কেহ দেখেনি কিন্তু জীবনটা চলে যাওয়ার সাথে সাথে একী অবস্থা? তিনি কোন দিন কাউকে আঘাত করেননি, এমন কি কারো সাথে ঝগড়া করেননি, গালিও দেননি। কিন্তু তার আত্মা বিদায় নেয়ার সাথে সাথে এ ভাবে মানুষ তাকে আঘাত করছে। কিন্তু কেন--?  চোখের সামনে এই যদি হয় তার অবস্থা তবে পরজগতে ? এ কঠিন অবস্থায় নানা ধরনের প্রশ্ন জাগছিল আমার হৃদয়ে। তন্মধ্যে সব চেয়ে বড় যে প্রশ্নটি আমার হৃদয়ে উদ্ভব হয়েছিল তা হলো : সত্যই কি এটি বিধাতার হুকুম?
এরপর হতে আমি ধর্ম নিয়ে গভীর ভাবে গবেষণা শুরু করি। এক এক করে হৃদয়ের সকল প্রশ্নের জবাব খুঁজতে শুরু করি। পরিশেষে আমি অন্ধকার থেকে আলোর সন্ধান পেলাম। ভ্রান্ত পথ ছেড়ে সঠিক পথে চলে এলাম। বুঝতে আর দেরি হলো না যে, ইসলামই একমাত্র আল্লাহ মনোনীত বিধান, যাতে রয়েছে দুনিয়ার সম্মান ও পরকালের শান্তি। তাই আমি ঘোষণা দিলামঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্।


আমার এ ঘোষণা ছিল সম্পূর্ণ নিরালায়, একমাত্র সৃষ্টিকর্তার সামনে। তাই আমার ইসলাম গ্রহণ আমার বাবা, ভাই,বোন কেউই জানতো না। এর পর থেকে আমার বেশী সময় কাটতো একা একা।  লোকের অগোচরে আমার রুমেই নামাজ সমূহ পড়ে নিতাম। আমার ঈমান অটল রাখার জন্য মহান করুণাময় আল্লাহ তা’য়ালার কাছে প্রার্থনা করতাম। আমি গোপনে ইসলামী বই পড়তাম। যত জ্ঞান অর্জন করি ততই আল্লাহর প্রতি আমার ঈমান ও ইয়াকীন বৃদ্ধি হয়েছিল। এভাবে কেটে গেল অনেক দিন।
এদিকে আমার পরিবারের অনেকেই আমার প্রতি নজর রাখছে। একে অপরকে জিজ্ঞাসাও করছে যে, সে এমন একা একা থাকে কেন? কেউ কেউ নানান সন্দেহও করছে। আবার কেউ ভাবছে মা মারা যাওয়ার কারণে হয়তো সে মানসিক ভাবে আঘাত পেয়েছে।
তবে আমার ব্যাপারটা তাদের কাছে স্পষ্ট হলো দুর্গা পূজার সময়। তারা আমাকে পূজামণ্ডপে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে সম্পূর্ণ রূপে অস্বীকার করলাম। সবাই জিজ্ঞাসা করল কেন তুমি মণ্ডপে যাবে না? কি হয়েছে?  সেই মূর্তে আমার এ অনুভূতি হয়েছিল যে আমি এক মহা পরীক্ষার সম্মুখীন। এই পরীক্ষায় আমাকে অবশ্যই উত্তীর্ণ হতে হবে। তাই শাস্তির ভয় না করে মৃত্যুকে বাজি রেখে ঘোষণা দিলামঃ “ আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি”।


মুহূর্তে এ খবর সবার কানে পৌঁছে গেল। বাবা রেগে আগুন হয়ে আমার রুমে আসল। তার এক হাতে ছিল লাঠি আর অপর হাতে ছড়ি। বাবা চিৎকার করে বললঃ তুই নাকি ইসলাম গ্রহণ করেচিছ?  আমি নির্ভয়ে বললামঃ  হ্যাঁ, আমি পড়েছি ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’।  বাবা নির্দয় হয়ে আমাকে বেদম মারতে শুরু করলেন। আর মুখে বলতে ছিলেন ইসলাম গ্রহণের স্বাদ তোমার মিটিয়ে দিব। তার লাঠির আঘাতের বেগ কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছিল, আর আমার মুখে ছিল ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’। আঘাতের প্রচণ্ডতায় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমি জানি না কতক্ষণ জ্ঞানহারা ছিলাম।  এর মধ্যে আমার প্রতি কি নির্মম নির্যাতন চালান হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহই ভাল জানেন। তবে চেতনা ফিরে আসার পর দেখি আমার শরীর ফেটে রক্ত ঝরছে।


আশপাশে চেয়ে দেখি আমার ভাই-ভাবীরা দাঁড়ানো। তারা সবাই বলছে, বাবা এবার এসে তোমাকে না কি বলি দেবে। অতএব তুমি এখন বলবে আমি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করব। এ ছাড়া তোমার বাঁচার আর কোন উপায় নেই। আমি নির্ভয়ে স্ব-জোরে বলে দিলাম, আমি প্রকৃত স্রষ্টার সন্ধান পেয়েছি, সত্য ও সঠিক ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করেছি। আমার দেহ থেকে শিরোচ্ছেদ হয়ে গেলেও আমি ইসলাম ত্যাগ করব না। আমি বিশ্বাস করেছি সেই মহান করুণাময় আল্লাহকে, যার হাতে আমার জীবন ও মরণ, যিনি পারেন বিপদ থেকে রক্ষা করতে। তিনি যাকে ইচ্ছা ইজ্জত দিতে পারেন। যাকে ইচ্ছা অপমান করতে পারেন। তিনি ফকিরকে বাদশাহ করতে পারেন, বাদশাহকে ফকির বানাতে পারেন। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন, যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। তিনিই সর্বময় ক্ষমতার একমাত্র মালিক।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই বাবা আবার লাঠি হাতে ছুটে এলেল এবং নিষ্ঠুর ভাবে প্রহার শুরু করলেন। প্রতিটা আঘাতে আমি আল্লাহকে স্মরণ করছি আর মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’’।  ব্যথার উপর আঘাত কত যে কষ্ট তা হয়তো আজ মুখে বর্ণনা করার মত নয়। এখানেই শেষ নয় বরং আমার শরীরে লবণ লাগিয়েছে তারা। ব্যথা, যন্ত্রণা ও জ্বালায় আবার অজ্ঞান হয়ে গেলাম। সচেতন হয়ে দেখি, গভীর অন্ধকারে আমি মাটিতে পড়ে আছি, তারা আমার অদূরেই সবাই মিলে পরামর্শ করছে। আমি শুনতে পাচ্ছি, বাবা বলছে, না, তা হবে না। তাকে জবাই করতেই হবে। ধর্ম ত্যাগের কি অপরাধ তা যেন অন্যেরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারে। সময় ঠিক করল আগামী কাল প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করা হবে। তবে সমস্যা হলো বাকি রাত টুকু কীভাবে কাটবে? কেউ বলছে সে তো অজ্ঞান অসুবিধা কোথায়। অন্যজন বলছে, যদি রাত্রের মধ্যে জ্ঞান ফেরে, তারপর সে পালিয়ে যায়? কেউ প্রস্তাব দিচ্ছে তাকে ঘরে তালা দিয়ে রাখা হোক। বাবা বললেনঃ না, সে মুসলমান হয়েছে ধর্মত্যাগী, অপবিত্র কোন মানুষকে আমাদের কোন ঘরে রাখা যাবে না। পরিশেষে সিদ্ধান্ত হলো যে তুলসী গাছের পাশে একটি পরিত্যক্ত কূপে তাকে বাকি রাতটা রাখা হবে । জ্ঞান ফিরলেতো আর কোন অসুবিধা নেই।


সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাকে সেই কূপে ফেলে দেয়া হলো। আল্লাহর কি কুদরত আমি যেন সেই কূপে আস্তে করে বসে পড়লাম। সেখানে কোন পানি নেই, গভীরতা তেমন না। আমার শরীরের ব্যথা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করল।
অন্ধকারে কিছুই দেখতে পারছি না। একা একা উঠতে চেষ্টা করছি কিন্তু ব্যর্থ হলাম। কারণ কূপের মুখ একটি কড়াই দিয়ে ঢাকা, শুধু তাই নয় বরং সেই কড়াইয়ের উপর রয়েছে একটা ভারী পাথর। তাই নিরাশ হয়ে বসে আছি। বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছি, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। মুঅমিন হিসাবে আমার মৃত্যু হবে এটাই আমার আনন্দ। হঠাৎ করে উপরে দিকে একটা শব্দ পেলাম। নজর করলাম কে যেন কড়াইটি সরিয়ে দিল। তারপর আওয়াজ ছোট করে বলছে, দাদা ! দাদা! আমি বললাম কে?
সে বলল আমি তোমার ছোট ভাই উত্তম। তোমার হাতটি একটু উঁচু করে আমার হাত ধর। আমি তাই করলাম সে আমাকে কূপ থেকে টেনে উপরে উঠিয়ে বলল দাদা! এখন রাত তিনটা ত্রিশ মিনিট। সিদ্ধান্ত হয়েছে সকালবেলা তোমাকে বাবা প্রকাশ্যে বলী দিবে। আর এ সিদ্ধান্তের কারণে আমার ঘুম আসেনি। সবাই ঘুমিয়েছে এই সুযোগে আমি এসেছি দাদা।
আমাকে ক্ষমা কর দাদা। আর কালবিলম্ব না করে তুমি এক্ষুনি চলে যাও। অনেক দূরে চলে যাবে, যাতে কেউ তোমার খোঁজ না জানে। আমি তার চেহারার দিকে লক্ষ করলাম। তার দু নয়ন থেকে অশ্রু ঝরছে আর এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। সে আমারে অত্যন্ত ভালোবাসত। সেও আমার অতি প্রিয়। আমার হাত ধরে অনুরোধ করেছে দাদা আর বিলম্ব করা কিছুতেই ঠিক হবে না। যদি কেউ টের পেয়ে বসে তবে………।
আমি আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না। ছোট ভাইটির মুখে একটি চুমু দিয়ে তার থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে সরে পড়লাম। রাতের অন্ধকারের এ ঘটনায় আমার ঈমান আরও কয়েক গুন বৃদ্ধি পেলো যে,  “রাখে আল্লাহ মারে কে”?  কিছুদূর গিয়ে আল্লাহর কাছে সিজদায় পড়ে গেলাম। সেই প্রভুর দরবারে জানিয়ে দিলাম। হে মহান স্রষ্টা সকল প্রশংসা একমাত্র তোমারই, সকল ক্ষমতার মালিকও একমাত্র তুমিই,  তাতে কোনই সন্দেহ নেই।
তারপর আমি আমার বাল্যবন্ধু আব্দুল্লাহর বাড়ি সরাসরি চলে গেলাম। আল্লাহর কুদরতের আমি বেঁচে আছি এ খবর দিয়ে তাদের পরামর্শে অনেক দুরে এক মাদ্রাসায় গিয়ে উঠলাম। সকল চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে ইসলাম সম্পর্কে ভাল ভাবে জানার জন্য মনোনিবেশ করলাম। আমার বন্ধু আব্দুল্লাহ মাঝে মাঝে বিভিন্ন খবরা খবর জানিয়ে পত্র লিখত। এমন ভাবে দীর্ঘ দিন কেটে গেল। হঠাৎ একটি পত্র পেলাম আমার বাবা ভীষণ অসুস্থ। অনেক দিন অসুস্থতার কারণে তিনি বিছানাতেই প্রস্রাব-পায়খানা করছেন। বেহুঁশ অবস্থায় ঘরের মধ্যে অবস্থান করছেন। দুর্গন্ধের কারণে কোন ছেলেও তার কাছে যায় না।
বাবার এ করুন অবস্থার কথা জেনে আর ঠিক থাকতে পারলাম না। সোজা ছুটে এলাম। এসে দেখি অবস্থা করুণ। ভাই ভাবীরা টেলিভিশন নিয়ে আনন্দ উল্লাসে ব্যস্ত। কেউ বাবার খবর রাখে না। আমি নিজ হাতে সবকিছু পরিষ্কার করলাম। ভিজা গামছা দিয়ে বাবার শরীর মুছে দিয়ে আতর লাগালাম। ডাক্তার নিয়ে এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলাম। ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ ও কিছু ফল ক্রয় করে নিয়ে এলাম।
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি অল্প কয়েক দিনেই বাবার জ্ঞান ফিরে এল। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানালাম। বাবা মাঝে মাঝে চক্ষু মেলে দেখেন। কিছু বলতে চান কিন্তু বলতে পারেন না। আমাকে চিনেছেন কি না আল্লাহই ভাল জানেন। কারণ আমার মুখে দাড়ি, মাথায় টুপি, পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, ঔষধ ও পথ্য সেবন যথানিয়মে চলছে। আমি মাঝে মাঝে তাকে বসানোর ব্যবস্থা করতাম, হাত-পা নড়াচড়া করাতাম। বাবা দ্রুত সুস্থ হতে লাগলেন। একদিন চোখ খুলে তিনি আমাকে বললেন, তুমি কে?
আমি আপনার মেজ ছেলে।
তুমি? তুমি না ইসলাম গ্রহণ করেছ?
হাঁ!
কি জন্য এখানে এসেছ?
আপনার খেদমত করার জন্য।
কে তোমাকে পাঠিয়েছে?
আমার সৃষ্টিকর্তা সেই মহান করুণাময় সমস্ত জগতের প্রতিপালক আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন।
তোমার সৃষ্টিকর্তা পাঠিয়েছেন? তুমি তো মুসলিম আর আমি হিন্দু?

আমি বললামঃ বাবা আমাদের ধর্ম ইসলাম। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত ধর্ম। ইসলাম এতো সুন্দর ধর্ম যে, যদি পিতা অন্য ধর্মাবলম্বী হয় তারপরও জীবদ্দশায় এ পৃথিবীতে তার খেদমত, তার সাথে ভাল ব্যবহার করতে শিখায়। মহান সৃষ্টিকর্তা নির্দেশ দিয়েছেন: তোমার বাবা-মা কান্ডজ্ঞানহীন হয়ে আমার সাথে শরীক করার জন্য তোমাকে পীড়াপীড়ি করলে তাদের কথা মেনে নিও না। তবে পৃথিবীতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করবে। (সূরা লোকমান ১৫)

সূত্রঃ ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ফেব্রুয়ারী ১১, ২০১৫ ইসলামিক ডেস্ক | ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫