Articles

Mahdi, Dajjal and Eassa(AS)

Deen, Sharia'h and Fiqh

Issues of which breaks the Iman

Dominance and Lordship

Justice and Governance

The boundary of sustaining the Relationship

Tagoot

Marriage and Divorce

Life of the Prophet (SAW)

Life of Khulafa Rashideen (RA)

The Ten Glad Tiding to Jannah

Democracy, Monarchy and Khilafah

Respecting wifes and slaves of Prophet(SAW)

 

আজানের মধুর ধ্বনিতে ইসলামের ছায়াতলে  ইয়াহুদি নারী           

 তিনি একজন ইয়াহুদি নারী। জীবনের নানা বাধা-বিঘ্নতায় ছিলেন কিছুটা ক্লান্ত। শান্তির সন্ধানে ছুটেছেন দেশ-দেশান্তরে। অবশেষে আজানের মধুর ধ্বনি তার মনে আনে পরিপূর্ণ শান্তি। খুঁজে পান ইসলামের পরশ। না,  তাকে ইসলাম গ্রহনে কেউ বাধ্য করেনি। হিজাব পরতেও তাকে বাধ্য করা হয়নি। তিনি নিজেই এটি বেছে নিয়েছেন। তিনি হলেন  সান্দ্রা নাউয়ি। ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি।

সান্দ্রার মুখেই শুনুনু ইসলামের পথে তার যাত্রার হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা:

আমি জীবনে সবসময়ই কিছু একটার অভাব অনুভব করতাম। আমি সর্বদাই ধর্মের মর্ম বুঝার চেষ্টা করেছি। তবে ভুল জাগায় এবং ভুল উপায়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ অনেকটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের সময় আমার পরিবার লুকিয়ে ছিল। আমার পিতামহকে বন্দী করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় আমার মা তার পিতাকে হারান।

১৯৫৭ সালে আমার বাবা-মা জার্মানি থেকে কানাডায় চলে যায়। আমার বাবা-মা ছিলেন ইয়াহুদি, ইয়াহুদি পরিবারেই আমার জন্ম। যুদ্ধের পর আমার বাবা-মা বেশ তিক্ত ছিলেন। উভয়ে অনেকটা বাধ্য হয়েই নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করতে চেষ্টা করেন। তারা নিজেদের নাম পরিবর্তন করে, নিজেদের ঐতিহ্যকে দূরে সরিয়ে রেখে কানাডিয়ানদের মত হতে চেষ্টা করেন। আমি আমার বাবা-মা থেকে একটু ভিন্ন ছিলাম। আমি ইয়াহুদি বিশ্বাসকেই আঁকড়ে থাকি। কিন্তু তখনও আমি কিছু একটার সন্ধানে ছিলাম। তবে আমি জানতাম না সেটা কি।

যখন আমার অনুসন্ধান শেষ হল তখন আর সান্দ্রা নেই। সান্দ্রা তখন হয়ে গেল সালমা। ইসলাম গ্রহণ করার সময় আমি সালমা নামটি বেছে নেই। কেননা সালমা (উম্মে সালমা) ছিলেন মহানবীর (সা:) স্ত্রীদের একজন, তিনি ছিলেন গরীবের জননী। তিনি সবাইকে সাহায্য করতেন। সালমা শব্দটি আমার নামের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ। কেননা আমি আমার নামের অর্থ অনুসন্ধান করে জেনেছি, সান্দ্রা মানে সাহায্যকারী।

ইসলামের সাথে প্রথম পরিচয়
সম্ভবত আমার বয়স যখন ১৩। তখন ক্যাট স্টিভেন্স নামে এক লোকের কথা জানতে পারি যিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে ইউসুফ ইসলাম নামে পরিচিত। বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করে। তখন থেকেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি। টিনেজার বয়সটি ছিল আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি বিদ্রোহী টাইপের ছিলাম না। তবে একেবারে শান্ত ও ছিলাম না। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। তাই ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ত্যাগ করি।

২০০১ সালে আমি এক মাতাল ড্রাইভারের আঘাতের শিকার হই। তখন থেকে আমাকে পুনরায় হাটতে শিখতে হয়। এই ড্রাইভার আমার গাড়িতে আঘাত হানে। আমার গাড়ি বাতাসের সাথে উড়তে থাকে। আমি জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল, আমি নিশ্চিত মারা যাচ্ছি।

দুর্ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটে যখন আমি জীবন নিয়ে অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলাম। আমি জানতাম নাঃ বাকি জীবনে আমি কি করতে চাচ্ছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে আমার মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং ২০০৫ সালে তার মৃত্যু। আর এই সমস্থ ঘটনা আমাকে ইসলামের প্রতি ধাবিত করে।

আজানের মধুর ধ্বনি
২০০৫সালে মায়ের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর আমি ভারত যাই। তখন ছিল রমজান মাস। সেখানে প্রথম রাতে আমি ঘুমোতে যাই। ভোর ৫টায় আজানের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আজানের শব্দের বিশাল শক্তি আমাকে মুগ্ধ করে। প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়ে যাই। আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দুর থেকে ভেসে আসা আজান আমার মনে পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও একাত্মতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আমি আনন্দে কেঁদে ফেলি। আমার এই কান্না ছিল বিশ্বাসের কান্না।

কালেমা পাঠ
আমি কালেমাহ শাহাদাহ পাঠ করতে এক ইমামের দ্বারস্থ হই। তিনি আমাকে এ সর্ম্পকে ধারণা দেন। তিনি বলেন, ‘কালেমাহ শাহাদাহ হচ্ছে একটি ঘোষণা, একটি স্বীকৃতি। এটি হল তাই যা আপনি বিশ্বাস করেন। আপনি ইসলামের প্রতি আপনার বিশ্বাস ঘোষণা করছেন। ইহাই কালিমাহর অর্থ। তিনি বললেনঃ আপনাকে দুটি বাক্য বলতে হবে যা আপনার অনুভূতির সাক্ষ্য বহন করবে। আর তা হল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসূল।

ইমাম সাহেবের কথা আমার খুব ভাল লাগল। আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম এবং বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে অগ্রসর হলাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট তার করুণা চাইলাম। আমরা সবাই এমন আনন্দের মুহূর্তে সাক্ষী হলাম। আমি ইমামের সাথে সাথে বললাম, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু অ্যা রাসুলুহ। তিনি আমাকে এর অর্থ করে শুনালেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি  আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মদ তার বান্দা ও রাসুল। শাহাদাহ পাঠের পর তিনি আমাকে অভিনন্দন জানালেন। তিনি বললেন, ‘জাজাক আল্লাহ খায়রান। আল্লাহু আকবর, আলহামদুলিল্লাহ।’

আমার ইসলাম গ্রহণের কথা আমার পরিবার এবং বন্ধুদের মাঝে বলাটা একটু কষ্টকর ব্যাপার ছিল।  বলার উপায় ছিল না যে, আমি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়ে গেছি।

হিজাব পরিধান
হিজাব পরতে শুরু করে  প্রথম চার সপ্তাহ আমি খুব স্নায়ুবিক দুর্বলতায় ভুগেছি। আমার কথা ও চিন্তা সম্পর্কে অন্যদের প্রতিক্রিয়া কি হবে তা ভেবেই স্নায়ুবিক অস্বস্তিতে ভুগতাম। কিন্তু চার সপ্তাহ পরেই আমি স্বস্তিবোধ করি। হিজাবের প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আসল সমস্যা হল উত্তর আমেরিকার মানুষ হিজাব পরিহিত নারীকে নিপীড়িত ও পরাধীন মনে করে। হয়তো কিছু দেশে কিংবা কিছু শাসন ব্যবস্থায় এটি সত্য। কিন্তু কানাডার জন্য নয়। এখানে আমাদের পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে এবং আমি এটি বেছে নিয়েছি।

আমি মনে করি, লোকে যাই বলুক না কেন নারীর শরীর ঢেকে রাখতে হিজাব পরিধান করা অতি জরুরি। পবিত্র কুরআনেও তাই বলা হয়েছে। হিজাব পরে আমি সত্যিই স্বস্তি অনুভব করি। আমি আনন্দিত। এখন আমি হিজাব ছাড়া জনসম্মুখে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারি না।

প্রথমবারে যখন হিজাব পরে কর্মস্থলে যাই, তখন আমি সামান্য নার্ভাস ছিলাম। আমি শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি লিগ্যাল ফার্মে আইনি সহকারী হিসাবে কাজ করছি, সুতরাং পোশাকের ব্যাপারে সামান্য রক্ষণশীলতার বিষয় রয়েছে।

আমি আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে যে অভ্যর্থনা পেয়েছি তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল মধুর। তবে কেউ কেউ মুখে ভেংচি কাটত, কেউ আবার কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত এবং আমার অনেক সহকর্মী আমার ডেস্কের পাশ দিয়ে যেতে সঙ্কোচবোধ করত।

দুঃখের বিষয় হল, আমার সবচেয়ে খারাপ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে যা আমি মুসলিম সম্প্রদায় থেকে পেয়েছি। এক শুক্রবার আমি জুমার নামাজের জন্য বের হই। পথিমধ্যে আমার ফোন বেজে ওঠে এবং এটি ছিল একজন মুসলিম মহিলার ফোন। তিনি আমাকে বলেন, ‘আপনি এখনও হিজাব পরেন?  আমি উত্তরে বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, ও আচ্ছা, আমার বন্ধুরা হতবাক কেমন করে এক শ্বেতাঙ্গ মেয়ে মুসলিম হওয়ার ভান করছে।

তাদের এমন মন্তব্য আমার হৃদয়ে আঘাত করে। এ কারণে যে আমি কোনো ভান করছি না। আমি উত্তর আমেরিকান হওয়ার কারণে লোকজন এমনটি মনে করে থাকে। তারা মনে করে, আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে রাজনৈতিক বিবৃতি সৃষ্টি করছি। কিন্তু আমি মনে করি বিবৃতি সৃষ্টি করার চেয়েও বড় কথা হলঃ আমি একজন মুসলিম এবং আমি হিজাবকে বেছে নিয়েছি।

এখানে একটি মিথ্যা প্রচলিত আছে। লোকজন মনে করে, উত্তর আমেরিকান মহিলাদের মধ্যে যারা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে, তারা সবাই বিবাহিত। এবং তিনি তার স্বামীর জন্যই এমন করেছেন। কিন্তু আসলে তা নয়।

আমি একজন মুসলিম নারী। আমি আমার সঙ্গীর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার অনেক পূর্ব থেকেই হিজাব পরছি। আমার স্বামী শেখ জামাল যাহাবি ১৯৮০সালে লেবানন থেকে কানাডায় আসেন। তিনি একটি ইসলামী কেন্দ্রের ইমাম। আমি তার সর্ম্পকে জানতাম। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বের সর্ম্পক তখন পর্যন্ত ছিল না যতক্ষণ না জানতে পারি আমরা কতটা অভিন্ন।

আমার বাবার সঙ্গে এখন পর্যন্ত হিজাব পরা অবস্থায় আমার দেখা হয়নি এবং এখন পর্যন্ত আমার স্বামীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। আমরা একটি পরিবার হিসাবে বাবার কাছে যাচ্ছি। যদিও আমি কিছুটা নার্ভাস অনুভব করছি। আমার বাবা কি বলবে সেসর্ম্পকে আমি নিশ্চিত নই এবং তিনি কি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন সেসর্ম্পকেও আমি নিশ্চিত নই।

সূত্র: অনইসলাম ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম: জানুয়ারী ২, ২০১৫