Articles

Mahdi, Dajjal and Eassa(AS)

Deen, Sharia'h and Fiqh

Issues of which breaks the Iman

Dominance and Lordship

Justice and Governance

The boundary of sustaining the Relationship

Tagoot

Marriage and Divorce

Life of the Prophet (SAW)

Life of Khulafa Rashideen (RA)

The Ten Glad Tiding to Jannah

Democracy, Monarchy and Khilafah

Respecting wifes and slaves of Prophet(SAW)

 

মুসলমানদের ১০টি যুগান্তকারী আবিস্কার
http://www.rtnn.net/bangla/realtime/records/news/201507/114781_1.jpg?7421437662475
আরটিএনএন, ২৩ জুলাই,২০১৫। আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বার্লিন:

ইউরূপ আমেরিকার অনেক নেতাকেই আজ ইসলাম ভীতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের এই ভয়ের পিছনে রয়েছে তাদের অজ্ঞতাও।

তারা হয়তো জানে না শত শত বছর ধরে ইউরোপীয় সভ্যতা ইসলামী প্রভাবে চমৎকারভাবে উপকৃত হয়েছে। ইসলামের মহা নবী সাঃর পর হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুসলিম বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিস্কারের পথ ধরেই এসেছে আজকের আধুনিক সভ্যতা। 

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যালজেবরা বা বীজগণিত, আকাশে উড্ডয়ন থেকে টুথব্রাশ, গিটার থেকে কফি, শল্য চিকিৎসা বা সার্জারি থেকে হাসপাতাল সহ বহু অসাধারণ আবিস্কার এসেছে মুসলমানদের হাত ধরেই। 

মুসলিম শাসনের এক হাজার বছরে ১০০১টি যুগান্তকারী আবিস্কার নিয়ে একটি বই লিখেছেন দা ফাউন্ডেশন অব সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সালিম আল-হাসানি।

এই  ১০০১টি আবিস্কার এখন লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামে প্রদর্শন করা হচ্ছে। 

সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আল-হাসানি বলেন, এক সময় মুসলমানরা স্পেন থেকে পর্তুগাল, উত্তর ইতালি থেকে চীনের একাংশ পর্যন্ত বিস্তীর্ন এলাকা শাসন করতেন। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে অমুসলিম বিশ্ব মুসলমানদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে।

১. শল্য চিকিত্সার উদ্ভাবন
মুসলিম রাজত্বের সময় স্পেনের আন্দালুসিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ডাক্তার আল-বিউকাসিস (আবু-ল-কাসিম) মধ্যযুগের চিকিৎসা পরিসংখ্যান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তির নাম। 

শল্য চিকিত্সা সর্ম্পকে তিনি ৩০ টিরও বেশি বই লিখেন। ডাক্তার রোগীর ইতিবাচক সম্পর্ক চিকিত্সা বিজ্ঞানে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে সর্ম্পকে বর্ণনা করেন দশম শতকের আরবের এই পণ্ডিত। তিনিই সর্বপ্রথম ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একই মানের চিকিৎসা সেবার কথা প্রচার করেন।  

এছাড়াও তিনি মূত্রনালী, কান এবং খাদ্যনালী রোগের চিকিত্সায় অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম জটিল গর্ভাবস্থার বিষয় বর্ণনা করেন। 
  
তার এই উদ্ভাবনগুলো এতটা প্রভাব বিস্তার করেছিল যে, ১৬ শতক পর্যন্ত বিশিষ্ট ইউরোপীয় চিকিত্সকরা তাকে উদ্ধৃত করতেন। তার এই ধারণাগুলো আধুনিক সার্জারির পথিকৃত। 

২. হাসপাতাল
সেবিকাসহ সর্বপ্রথম আধুনিক হাসপাতাল এবং ডাক্তার-সেবিকাদের প্রশিক্ষনের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কায়রোতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৮৭২ সালে “আহমেদ ইবনে তিউলান” নামে কায়রোতে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এ হাসপাতালে সবধরনের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হত। হাসপাতাল হচ্ছে একটি মুসলিম ঐতিহ্য। মুসলিমরাই প্রথম এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।

এর আগে বাগদাদে সামান্য কিছু চিকিৎসা সেবা নিয়ে হাসপাতালের অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু কায়রোর মডেলই বিশ্বজুড়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত।

৩. বীজগণিত
অনেক পশ্চিমা, বিশেষ করে জার্মানরা তাদের প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের কৃতিত্ব নিয়ে খুবই গর্ববোধ করে থাকে। কিন্তু বীজগণিত ছাড়া কে হতে পেরেছে একজন সফল প্রকৌশলী?

ব্রিটেনের চেস্টারের ব্রিটিশ- অ্যারাবিক রবার্ট আরব পণ্ডিত আল-খোয়ারিজমি লেখা অনুবাদ করার মাধ্যমে দ্বাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে গাণিতিক পদ্ধতি পরিচিতি লাভ করে। আল-খোয়ারিজমির অ্যালগোরিদম আধুনিক বীজগণিতের ডেভেলপার হিসেবে পরিচিত। এ জন্য  আল-খোয়ারিজমিকে বীজগণিতের জনক বলা হয়ে থাকে।  

৪. আকাশের উড্ডয়নের যন্ত্র
আকাশের উড্ডয়নের যন্ত্র বা ফ্লাইং মেশিন প্রথম উদ্ভাবন করেন আব্বাস ইবনে ফিরনাস। নবম শতাব্দীতেই তিনি পাখির আদলে উড্ডয়নের যন্ত্রপাতির নকশা তৈরি এবং তা সংযোজন করেন। তিনি স্পেনের করডোভায় এসব যন্ত্র নিয়ে কিছুক্ষণ উড়েছিলেন। উড়তে গিয়ে পড়ে পিঠ ভেঙে যায় তার। 

আল-হাসানি বলেন, তার এ আবিস্কার কয়েকশ’ বছর পর ইতালির শিল্পী ও আবিস্কারক লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে অনুপ্রাণিত করে। 

৫. বিশ্ববিদ্যালয়
৮৫৯ সালে মরক্কোর তরুণী রাজকুমারী ফাতিমা আল-ফিরহি প্রথম ফেজে ডিগ্রি অনুমোদনকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তার বোন মিরিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়টির পাশেই একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এই কমপ্লেক্সটি কারাউইয়িন মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।  ১২০০ বছর পর এটি এখনো সচল।
http://www.rtnn.net/bangla/realtime/uploaded/1011.jpg
অধ্যাপক হাসানি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এই কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় যে শিক্ষা হলো ইসলামের প্রাণ।  এই দুই বোনের কাহিনী আজ বিশ্বব্যাপী তরুণ মুসলিম নারীদের অনুপ্রেরণনার উৎস। 

৬. টুথব্রাশ
শারীরিক স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেয়ার প্রতি ইসলাম হচ্ছে বিশ্বের প্রধান ধর্ম। পবিত্র কুরআনে  পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, ইসলামের কারণেই দাঁত পরিষ্কারের বিষয়টি জনপ্রিয়তা লাভ করে। সর্বসম্মত ভাবে সবাই স্বীকার করেছে যে, প্রাচীন মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম দাঁত পরিষ্কারের জন্য গাছের ডাল ব্যবহার করতেন।

তাদের ব্যবহার করা ডালই আজকের মেসওয়াক হিসেবে পরিচিত। মোহাম্মদ (সা:) দাঁত ব্রাশ করার জন্য নিয়মিত এই গাছের ডাল ব্যবহার করতেন। এরপর থেকেই এটি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠে।

৭. বিবর্ধক কাচ বা চশমা
আরব বিশ্ব শুধুমাত্র গণিতেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেনি, তারা বিবর্ধক কাচ বা চশমার ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। বসরা নগরীর বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত আল-হাজেন (আবু-ল-হাসান) সর্বপ্রথম বর্ণনা করেন চোখ কিভাবে কাজ করে।

তিনিই প্রথম প্রতিফলিত উপকরণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান এবং প্রমাণ করেন যে, চোখের দৃষ্টি রশ্মির সাথে পারিপার্শ্বিক অনুভূতি নেই। এছাড়াও বাঁকানো কাচের পৃষ্ঠতল বিবর্ধনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে- এই মত তিনিই প্রথম দেন।
চশমা সর্ম্পকে তিনিই প্রথম ‘রিডিং স্টোন’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এর পর থেকে চশমার উন্নতি ঘটতে থাকে। এছাড়াও আল-হাজেন আবহাওয়া বিদ্যার উপর পাণ্ডিত্যপূর্ণ গ্রন্থ লিখেছেন।

৮. কফি
মুসলিম বিশ্ব থেকেই সর্বপ্রথম কফি রপ্তানি করা হয়। এটি উৎপত্তি ঘটে ইথিওপিয়ায়। এরপর খুব দ্রুত আরব অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটে। এখানে এটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

মনে করা হয় যে, ১৭ শতকে অটোমান বণিকরা শিম ভিত্তিক পানীয় লন্ডনে নিয়ে আসেন। ১৬৪৫ সালে ভেনিসে প্রথম কফিহাউজ স্থাপিত হয়। ১৬৮৩ সালে জার্মানি অস্ট্রিয়া থেকে পশ্চাদপসারণ করে তুরষ্কে আসার পর তারা এটি সর্ম্পকে প্রথম জানতে পারে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, সুলতানের সৈন্যরা এ কফি বস্তায় ভরে তাদের দেশে নিয়ে যায়।

৯. কুচকাওয়াজ ব্যান্ড
সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজের সর্বপ্রথম প্রচলন হয় অটোমান (উসমানীয়) খিলাফত কালে। যুদ্ধ চলাকালীন পুরো সময়ে এ ব্যান্ড বাজানো হতো এবং এটি বাজানো তখনি শেষ হত, যখন সৈন্যরা পশ্চাদপসরণ করত কিংবা যুদ্ধ যখন শেষ হতো।
  
উসমানী সৈন্যদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই ব্যান্ড ইউরোপীয় সৈন্যদের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলত। এরপর থেকে ইউরোপীয়রা তাদের নিজেদের ব্যবহারের জন্য এই নীতি গ্রহণ করে।
  
১০. গিটার
আমরা আজকে গিটার হিসেবে যেটিকে জানি, তার উৎপত্তি হয়েছে এরাবিক উদ্ থেকে। এর নাম ছিল লিউট। মধ্যযুগে স্পেনে মুসলিম রাজত্বের সময় এটির প্রচলন হয়।

বলা হয়ে থাকে যে, উমাইয়া শাসক দ্বিতীয় আবদুল রহমানের দরবারে নবম শতকে একজন সঙ্গীত শিক্ষক এটি নিয়ে আসেন। আধুনিক গিটার উন্নতি লাভ করেছে নানা পরিক্রমায়। কিন্তু এরাবিক লিউট আধুনিক গিটারের গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসুরী।

সূত্র: সিএনএন ও হাফিংটন পোস্ট 

বিঃ দ্রঃ গিটার মুসলমানদের আবিষ্কার হলেও গিটার সহ অনেক বাদ্য যন্ত্রের ব্যবহার অনুমদিত নয়।